Monday, June 29, 2020

ভাষায় লিঙ্গীয় বৈষম্য (৫)


নারীর বিরুদ্ধে ভাষার রাজনৈতিক ব্যবহার আমাদের চারপাশে বিরাজমান। এর মধ্যে বাংলাদেশে আদালত একটি খন্ডন করেছে।শব্দটি ছিল ইভ টিজিং

আমাদের চারপাশে এমন কোন মেয়ে ছিল না,এখনো নেই যে ‘তথাকথিতইভ টিজিং এর শিকার হয়নি। যেমন, স্কুলে যাওয়ার পথে একদল ছেলের পিছে পিছে যাওয়া। কারণ মফস্বলে মেয়েরা হেঁটে বা রিকসায় স্কুলে যায়। মেয়ে দেখলে শিষ দে্যা। আগে প্রেম পত্র পাঠাতো। এখন মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠায়।অযাচিতভাবে মেয়েদের শরীর স্পর্শ করা,জোরে সেলফি তুলা। ইত্যাদি ইত্যাদি।মেয়ে পাঠক এ তালিকা দীর্ঘ করতে পারবেন।

এক সময় অভিভাবকরা এসবকে যুব বয়সের রোমান্টিকতা বলে ধরে হালকা ধমক ধামক দিয়ে মিটিয়ে ফেলতো।কিন্তু  ২০০৯ -২০১০ এর দিকে বাংলাদেশে তা ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। যুবগোষ্ঠির রোমান্টিকতা যৌন হয়রানিতে রুপান্তরিত হয়। বখাটেদের কর্তৃক নারীরা যৌন হয়রানি অনেক মেয়ে ও নারী সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে। ইভ টিজাররা এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠে যে তাদের এসব অপকর্মে বাধা দিতে গিয়ে অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন।

ইভ টিজিং এর নামে যৌন হয়রানি করেও কখনো কখনো একে নিছক রসিকতা গণ্য করে অপরাধীরা দায় এড়াতে পেরেছে।এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী, নারীপক্ষসহ অনেক নারীবাদী সংগঠন ইভ টিজিংএর পরিবর্তে কোন উপযুক্ত শব্দ প্রতিস্থাপনের দাবি জানায়।তাদের মতে হাওয়া(ইভ) বিবির পৌরাণিক কাহিনীর প্রসঙ্গ এনে ইভ শব্দের ব্যবহার নারীর আবেদনময়তাকে নির্দেশ করে। যে কারণে উত্ত্যক্ত হওয়ার দোষ নারীর উপর বর্তায় আর পুরুষের আচরণ আগ্রাসনের পরিবর্তে স্বাভাবিক হিসেবে ছাড় পায়

২০১০ সালের ২ নভেম্বর সারা দেশে যৌন হয়রানি রোধে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে জনস্বার্থে অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী একটি রিট দায়ের করেন। দীর্ঘদিন শুনানির পর আদালত কয়েক দফা নির্দেশনাসহ রায় প্রদান করেন

২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি  বাংলাদেশের হাই কোর্ট ইভ টিজিং বা মেয়েদের উত্যক্ত করার বিষয়টিকে যৌন হয়রানি হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছেরায়ে বলে হয়েছে ইভ টিজিং শব্দটি অপরাধের মাত্রা হালকা করে দেয়, এর পরিবর্তে সর্বস্তরে যৌন হয়রানি শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। এসএমএস, এমএমএস, ফোন ও ইমেইলের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করাও যৌন হয়রানির আওতায় আসবেআমার এ লেখার উদ্দেশ্য যৌন হয়রানির তালিকা প্রস্তুত নয়, বা রায়টির আইন সঙ্গত ব্যাখ্যা দেয়াও নয়।কাজেই নিয়ে আর শব্দ ব্যয় করছি না।  

হাওয়া(ইভ) বিবির পৌরাণিক কাহিনীর ইভ টিজিং শব্দ আদালতের নির্দেশে পরিণত হলো যৌন হয়রানিতে।পৌরাণিক কাহিনীর ঘটনায় ইভ মানে নারী হাওয়া প্রতারণার জন্য দায়ী। সে কাহিনী আধুনিক আদালত অপরাধীরাদের অপকর্মের জন্য এর শব্দার্থ পালটে দিয়েছেন। শব্দের এ রুপান্তর রাষ্ট্র ও সমাজ মেনে নিয়েছে। নারীর বিরুদ্ধে ভাষার রাজনৈতিক ব্যবহারে পড়েছে নিষেধাজ্ঞা।

 কাজেই এখন কোন পাঠ্য বইয়ে হাওয়া বা ইভের কাহিনী অন্তর্ভুক্ত করলে এবং তা শিক্ষক ব্যাখ্যা করতে গেলে শব্দের এ নারীবাদী রুপান্তর ব্যাখ্যা না করলে পাঠদান অসম্পূর্ণ থাকবে বৈ কি! 

 
দুগ্ধদানকারী মা। Breastfeeding mother এর বাংলা করা হয়েছে দুগ্ধদানকারী মা। এ দুগ্ধদানকারী মা শব্দদ্বয় আমার পছন্দ নয়। বিশেষ করে মায়ের সাথে দুগ্ধদানকারী কেন?
অপছন্দের কারণ সব সময় বুঝা যায় না।আবার অনেক সময় বুঝলেও প্রকাশের ভাষা থাকে না।দুগ্ধদানকারী মা শব্দদ্বয় এবং সম্বোধনটি কেমন যেন গাভী গাভী লাগে। দুধেল গাই।এটি হয়তো আমার অবচেতনে টোটেমবাদের প্রভাব।

টোটেমবাদের প্রভাবেই দুগ্ধদানকারী মা বললে ছোট বেলায় শোনা কবলি গাইয়ের কথা মনে পড়ে
ছোটবেলায় ঠাকুমাদের কাছে (মা,বাবা,কাকাদের কাছে সব সময় যে কোন প্রয়োজনে পয়সা চাওয়ার আবদার অনুমোদন পেতো না।চাইতামও না।) পয়সা চাইলে বলতেন, আমি কি কবলি গাই, যে চাইলেই পাবি। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী কবলি গাই থেকে যখন ইচ্ছে তখন দুধ দুয়ানো যেতো। শৈশবে আমাদের গ্রামে হিন্দু পাড়ায় অনেকের ঘরে মেলা থেকে কেনা একটা ছবি ঝুলানো দেখেছি। পেছনটুকু দুধেল গাভীর এবং পাখাও আছে, আর সামনের মুখটুকু সুন্দরী নারীর। যখন তখন যত ইচ্ছে দুধ দোয়ানো যেতো বলে দাদুর মুখে গল্প শুনেছি। এর প্রভাবেই হয়তো দুগ্ধদানকারী মা শব্দটি আমার অপছন্দ
এ নিয়ে সরকারী কর্মসূচি আছে। কিন্তু এর একটি যুৎসই বাংলা শব্দ পাওয়া গেল না!
সংস্কৃতে দুগ্ধ, প্রাকৃতে দুদ্ধ ও বাংলায় দুধ
দুগ্ধবতী মানে দুধ দেয় এমন, দুধালো। দুগ্ধবতী দুগ্ধ দান করে
বাংলা শব্দ যেখানে সহজ লভ্য সেখানে সংস্কৃত শব্দ দিয়ে কর্মসূচির নাম ভারাক্রান্ত করা কেন! আমজনতাকেও শব্দটি বুঝাতে হবে তো! অনুবাদের জন্য শব্দ বাছাই আমজনতার জন্য করতে হবে। কারণ কর্মসূচিটি আমজনতার মধ্যে সব চেয়ে অধঃস্তন প্রসূতি মা হলো লক্ষিত গোষ্ঠি। দুগ্ধদানকারী শব্দ সংস্কৃত থেকে নেয়া। কর্মসূচি হলো প্রাকৃতজনের জন্য। আর দুগ্ধদানকারী মা বললে আমার মতো জেন্ডার মৌলবাদীর কানে বাজে ও মনে লাগে। দুগ্ধদানকারী মা না বলে কি বলা যায়? স্তন্যদাত্রী মা? শ্রুতিমধুর হলেও আরও কঠিন হলো? কিন্তু মাকে দুধেল গাই মনে হচ্ছে না। অথবা বুকের দুধ খাওয়ানো মা বললে সমস্যা কি! জানি না! অন্যদিকে মাতৃদুগ্ধ বললে সংস্কৃত শব্দের সমাহার থাকলে কানে বাজে না। মাতৃ ---- মা সংযুক্ত বলেই হয়তোবা।

শুধু টোটেমবাদের প্রভাবে নয়, আধুনিক কবিতার মননেও দুগ্ধবতী শব্দটি নারী সত্ত্বায় আপন হয় না।

বৃষ্টির দোহাই বিবি, তিলবর্ণ ধানের দোহাই
দোহাই মাছ-মাংস দুগ্ধবতী হালাল পশুর,
লাঙল জোয়াল কাস্তে বায়ুভরা পালের দোহাই
হৃদয়ের ধর্ম নিয়ে কোন কবি করে না কসুর“ ( আল মাহমুদ)


Monday, June 22, 2020

ভাষায় লিঙ্গীয় বৈষম্য (৪)


রাজনীতির ভাষা, ভাষার রাজনীতি এবং ভাষার রাজনৈতিক ব্যবহার সমার্থক নয়।

ভাষার রাজনৈতিক ব্যবহার এক জটিল সমীকরণ।

রাজনীতির ভাষা বিশেষ করে এ উপমহাদেশের মানুষেরা সবাই আমরা জানি। বাংলাভাষীদের রাজনীতির ভাষা তো জনগণের আত্মস্থ। বাংলাদেশে কথা শুনলেই বুঝা যায় উনি কোন পার্টির নেতা। আওয়ামীলীগ? জামাত? বি এন পি? জাতীয় পার্টি?ভারতে,বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস তাও বুঝা যায়।


অন্যদিকে,
ভাষার রাজনীতির জনই পৃথিবীব্যাপী ইংরেজী ভাষার কদর ও আদর। ফ্রেঞ্চও কোলে কাঁখেই মানুষ।পরে স্পেনিশ। জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা ছয়টি। উল্লেখিত তিনটি বাদেও রয়েছে রাশিয়ান,চাইনিজ ও আরবী। এসব ভাষার অবস্থান রাজনীতির সুফল।যদিও যুক্তি দেয়---যে ভাষার দাপ্তরিক প্রয়োগ যত বেশি তার গুরুত্ব বেশি হিসেবে ভাষার মান নির্ণয় হয়। এটাও রাজনৈতিক কৌশল।বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের ভাষা করার জন্য সাক্ষরতা অভিযান শুরু হয়েছিল। কিন্তু ভাষা রাজনীতিতে ফসল ঘরে তোলা যায়নি।একুশে ফেব্রুয়ারি তো ভাষা নিয়ে রাজনীতিরই সাক্ষীভারতে হাজার ভাষার ভিড়ে হিন্দি রাজ সিংহাসনে। তবে অন্যান্য ২১টি ভাষা নিজেদের ঘরে ঠাকুর সিংহাসন গড়ে নিয়েছেবাংলাদেশে প্রায় চল্লিশটি ভাষার মধ্যে অন্য সব ভাষারা বাংলা ভাষার রাজনৈতিক কৌশলের কাছে হাতজোড় করে হাঁটু গেড়ে বসা


কিন্তু ভাষার রাজনৈতিক ব্যবহার নারীর জীবনে এক অমোঘ অভিশাপ।নারীর যথাযথ পরিচয় সংশায়িত। নারী অস্তিত্ত্বের সংকটে দোলায়িত।

একটি গল্প থেকে----
“বিয়ের পরপরই ধাক্কা খায় সুজলাপাশের বাড়ির হেড মাষ্টারবাবুর বউ এস এস সি পরীক্ষায় ফেল করে গৃহিণী হয়েও বড় মাষ্টারণী আর সুজলা নিজে উচ্চ বিদ্যালয়ের বি এস সি শিক্ষক হয়েও ছোট মাষ্টারণী। প্রথম প্রথম বিষয়টি তার কানে বিঁধত। এখন কান সইয়ে নিলেও মন পারে না।

সহজেই অনুমেয় যে এখানে শিক্ষকতা না করেও বড় মাস্টারণী। মাস্টা্র পুংলিঙ্গ ও মাস্টারণী স্ত্রী লিঙ্গ। একজন মাস্টারের আক্ষরিক অর্থে স্ত্রী হয়ে স্ত্রীবাচকশব্দ মাস্টারণী। অন্যজন স্বপরিচয়ে মাস্টার হয়েও মাস্টারণী।এ দুজনের পার্থক্য কীভাবে করা? এখানে কোন ধরণের লিঙ্গান্তর প্রযোজ্য? উচ্চ বিদ্যালয়ের বি এস সি শিক্ষপরিচিতির সংকটে নিমজ্জিত।বৃত্তি বা পেশাগত পরিচিতির সাথে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগের ফলে সংঘর্ষের জন্য বৈয়াকরণগণ দায়ী নয় কি?

এরকম শতেক উদাহরণ দেয়া যাবে। একজন পেশাগত পরিচয়ে চিকিৎসক হয়ে ডাক্তারনী আর অন্যজন একজন ডাক্তারের স্ত্রী হয়ে ডাক্তারনী। প্রত্যন্ত গ্রামে গোয়ালার স্ত্রী গোয়ালিনী।গরুর দুধ নিজে দুইয়ে বাজারে নিয়ে গেলেও  গোয়ালিনী, এ সব কাজ না করলেও গোয়ালার স্ত্রী গোয়ালিনী।তেমন-- জেলে জেলেনী, কুমার কুমারনী,কামার কামরানী ইত্যাদি ইত্যাদি।

এর চর্চা আমাদের গ্রাম, শহর, শিক্ষিত, নিরক্ষর সর্বত্র বিরাজমান। জেলা শহরে ডি সি ভাবী, এস পি ভাবী।মানে ডেপুটি কমিশনার মহোদয়ের স্ত্রী ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের স্ত্রী। লেখকের স্ত্রী লেখক ভাবী বা লেখিকায় রুপান্তরিত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

নারীর অবস্থা যাই হোক,অবস্থান অপরিবর্তিত। মাস্টারণী, ডাক্তারনী, জেলেনী, কুমারনী,গোয়ালিনী আর কামারনীর অবস্থা ভিন্ন হলেও অবস্থান এক বিন্দুতেই বিলীন।পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোতে নারীর অবস্থা ও অবস্থানগত পরিচিতি ভাষার রাজনৈতিক ব্যবহারের উদাহরণ। বি এস সি শিক্ষক নারী ভাষার রাজনৈতিক ব্যবহারের শিকার।


সাহিত্য মানুষকে মানবিক করে তুলে। আনন্দে রাখে। সংবেদনশীল করে। নিজের একটি জগত সৃষ্টিতে সহায়তা করে। অসাম্প্রদায়িক করে।সাহিত্য মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখায়। এসব মেনে নিয়েই  ইদানিংকালে ভাষার রাজনৈতিক ব্যবহারের নমুনা দিচ্ছি ---   

"তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সে কি মোর অপরাধ" অথবা

"ও কেন এত সুন্দরী হলো দেখে তো আমি মুগ্ধ হবোই" এসব অমোঘ প্রেমের পংক্তি আজকাল উত্যক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। নারীর প্রতি নিজের প্রলুব্ধকরণের মাছ ঢাকতে এসব কাব্যিক সুষমাকে শাক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নারী হয় নির্যাতনের শিকার 

মা তোরে বেইচ্চালামু
কি কস, বাজান! আমারে বেইচ্চা লাবি! মাইনষে মা বেইচ্চালায়?
আরে মা, এমুন দাম চামু, তরে কিনব কোন বেডায়?(বেডায়ই, কারণ বেডিদের ক্রয় ক্ষমতা সীমিত।তাই লোককথা, শ্রুতি বা প্রবাদ প্রবচনেও তা প্রতিফলিত)

ভাষায় লিঙ্গ বৈষম্য ঘোচানো এমনই মা বেচে ফেলার মতো দামী।এমন অযৌক্তিক যুক্তি দেয়া হবে যে তা খন্ডন করবে কে?  

নারী তোমায় স্বাধীনতা দিব।কোন কোন ক্ষেত্রে? সর্বজনস্বীকৃত উত্তর--সম্পদে সিদ্ধান্তে। আওয়াজ তোলার সময় বিগত যে নারীকে নিয়ে শব্দ প্রয়োগ ও ভাষা ব্যবহারেও সচেতন, সজাগ ও সংবেদদনশীল হওয়া অত্যাবশ্যকীয়। ভাষায় লিঙ্গ বৈষম্য ঘোচানোই তো এক ধরণের আন্দোলন

তুমি নারী। ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশল বিদ্যায় পড়বে? পড়ো। তবে তুমি পাশ করে চাকরি করলেও তোমাকে শুধু প্রকৌশলী বা ইঞ্জিনিয়ার বলবো না। তুমি মহিলা প্রকৌশলী বা ইঞ্জিনিয়ার।(যাক,প্রকৌশলীনি যে বলবে না তাতেই কি খুশি থাকা উচিত?)

চাকরির জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং কোন পদে পরীক্ষা দেবেভালো করতে পারলে চাকরি হবে। তোমার নিয়োগ পত্রে ইঞ্জিনিয়ার বা প্রকৌশলী লেখা থাকবে। কিন্তু শুদ্ধাচারী বৈয়াকরণগণ তোমাকে ব্যাকরণ বইয়ে বলবে মহিলা প্রকৌশলী।

কিছু ছিঁদ কাঁদুনে নারীরা বলবে এ শব্দই তো যথাযথ। মহিলা প্রকৌশলী। মহিলার অস্তিত্ত্ব পদের সাথে লেপ্টে আছে। শুধু প্রকৌশলী বললে তো নারীর অস্তিত্ত্ব বিলীন হয়ে যাবে। ভালোই তো আমরা--- মহিলারাও যে প্রকৌশলী হতে পারি এর প্রমাণ। আমাদেরও যে মেধা আছে—এর উদাহরণ। উল্লেখিত পদে যে একজন মহিলা চাকরি করছে এ তো গর্বের বিষয়। জানান দিতে হবে না? বেশ বেশ।

আসলে প্রথাগত ধারণা পোষণ করা থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং পদের চেয়ারটি পুরুষের জন্য আবাহনমান কাল ধরে নির্ধারিত। ঐ পদে একজন নারী বসে নিজেকে প্রকৌশলী না বলে আগে মহিলা বলবেন। কী মজার প্রস্তাব!নারী যে কোন পদের সাথে তার শারিরীক গঠন জুড়ে দিয়ে অস্থিত্ত্ব জাহির করবে। ইঞ্জিনিয়ারিং পদটি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ কোন মানুষের জন্য নয়? এটি কি পুরুষদের জন্য সৃষ্ট? কী উদ্ভট ভাবনা।

এ ছিঁদকাদুনে কিছু মানুষ বলে, নারী যে পদেই থাকুক স্ত্রীবাচক শব্দ ছাড়া তার পরিচয় অসম্পূর্ণ এবং স্ত্রীবাচক শব্দ ছাড়া নারী অফিসে, আদালতে, সংসদে পরিচিত হলে সব স্ত্রীবাচক শব্দের অস্তিত্ত্ব বিলীন হয়ে যাবে এবং তা নারীর জন্য অবমাননাকর।

কিন্তু তারা ভুলে যায় যে একজন নারী অফিসে ইঞ্জিনিয়ার বা প্রকৌশলী। বাবা মায়ের কাছে কন্যা।স্বামীর পাশে স্ত্রী। সন্তানের কাছে মা।ভাইয়ের কাছে বোন। ঠিক এর  বিপরীতে একজন পুরুষ অফিসে ইঞ্জিনিয়ার বা প্রকৌশলী। বাবা মায়ের কাছে পুত্র।বোনের কাছে ভাই। স্ত্রীর পাশে স্বামী। সন্তানের কাছে বাবা। এখানে প্রাকৃতিক লিঙ্গান্তর নিয়ে কোন দ্বন্ধ নেই।