Tuesday, May 26, 2020

ভক্তের অধীন ভগবান


এক লোক বিপদে পড়ে বা কোন কিছু পাবার আকাংঙ্ক্ষায় মানত করেছে। বিপদ থেকে উদ্ধার পেলে বা আকাংঙ্ক্ষা পূরণ হলে জোড়া মহিষ বলি দিবে। ভগবান কথা শুনেছেন। ভক্তের মনোবাসনা --- মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়েছে।

এভাবে বছর চলে গেল কিন্তু লোকটি আর জোড়া মহিষ বলি দিচ্ছে না। (হিন্দুরা ভারত ও বাংলাদেশে মহিষ বলি দেয় না। খায়ও না। নিষিদ্ধ।তবে নবমী পূজার দিন নেপালে মহিষ বলি চলে। গল্পটা ধরে নেন ওই দেশেরই। ) ভগবান স্বপ্ন দেখালেন -- কিরে আমার জোড়া মহিষ কই?

ভক্তের উত্তর --- জোড়া মহিষ অনেক দাম। পাঠা বলি দেওয়ার অনুমোদন দিন। ভগবান বললেন---তথাস্তু।

আবারও বছর গত। ভক্ত পাঠা বলি দেয় না। ভগবান স্বপ্ন দেখালেন।জানতে চাইলেন--- কিরে আমার জোড়া পাঁঠা কই?

ভক্তের তাৎক্ষণিক উত্তর ,জোড়া পাঁঠাও তো অনেক দাম। তাছাড়া বাংলাদেশে পাঠা এত সহজ প্রাপ্য নয়। মুসলমানের দেশে খাসি পাওয়া যায় ।এর চেয়ে ভাল কবুতর দেই। পাঠক আমার গল্পটা নেপাল থেকে বাংলাদেশের চলে এসেছে। আমি লিখছি তো,কাজেই আপনাদেরকে গল্পটি বোঝাতে যেভাবে সহজ হয় সেভাবে লিখছি।মানে আপনাদের জন্য এ কৌশল এবং গল্পটির চরিত্রের দেশান্তর। সংস্কৃতির ধর্মীয় চর্চার সংযোজন। এখানে কেউ সাম্প্রদায়িক গন্ধ খুঁজেও পেতে পারেন। আবার আমি নিজেও সাম্প্রদায়িক গন্ধ ছড়াতেই পারি। আমরা কেউই তো এ পৃথিবীর সংকীর্ণ সীমাবদ্ধ আলো-হাওয়ার বাইরে নই ।সামাজিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতিবাচক প্রভাব মুক্ত নই।

যাহোক,ভগবান ভাবলেন --ভক্তের অধীন ভগবান। গান ওতো আছে---

"ভক্ত আমার মাতা পিতা
ভক্ত আমার গুরু,
ভক্তে আমার নাম রেখেছে
বাঞ্ছা কল্প তরু
ভক্তের কাছে আমার প্রেম ডুরি,
ভক্তে যেদিকে ঘুরায় আমি সেদিকে ঘুরি।"

কাজেই ভগবান বললেন, কবুতরই দিস। তবে তাড়াতাড়ি দিস।

আবারো বার মাসের চক্র শেষ।ভক্ত কবুতরও দেয় না।

ভগবান এবার ক্ষুব্ধ। আবার স্বপ্নে দেখা দিলেন।জিজ্ঞেস করলেন-- ঘটনা কি! কবুতরের ও তো খবর নেই। মহিষের অঙ্গীকার থেকে কবুতরে নেমে আসলি।তবুও তো অঙ্গীকার বাস্তবায়নের নামগন্ধ নেই।

ভক্ত কাচুমাচু হয়ে করজোরে বলল ---কবুতর কিনতেও টাকা লাগবে। বাড়তি টাকা পাই কই? একজোড়া ফড়িং দিই।

ভগবান ভক্তের নমনীয়তায় হেসে ফেললেন। রাগ আর রইল না।বললেন, তথাস্তু তথাস্ত। যা, তুই যা দিবি তাতেই আমি সন্তোষ্ট। দেয়াটাই বড় কথা,কি দিবি সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তুই যে আমার কাছে অবনত তাতেই আমি খুশি।তবে বছর পার করিস না।

কিন্তু ভক্ত তো আবারও গেছে ভুলে।অথবা আছে ভুলের ভানে। বারো মাসেও ভগবানের পাওনা শোধ করেনি।

ভগবান দয়ার সাগর।ভক্তকে আবার বিপদে ফেলে নিজের পাওনা আদায় করতে পারছে না। অগত্যা আবারও স্বপ্নে দেখা দেয়। জানতে চায় ফড়িং না দেবার কারন কি !

ভক্তের উত্তর, কতো ফড়িং বনে বাঁদাড়ে ঘুরে বেড়ায়। তুমি ধরে ধরে খেতে পারো না?

পাঠক, গণজন ভগবান। অনুগত নাগরিক। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার যেভাবে রাখে সেভাবেই খুশি। ফড়িং ধরে ধরে খাওয়ার নির্দেশ পর্যন্ত অপেক্ষা করে। সে সরকার ট্রাম্প বা মোদি অথবা যে ই হোক না কেন।

2 comments:

  1. এটা লেখকের স্বাথকতা.... সুইয়ের খোঁচা কিন্তু হাঁসিও পেল..

    ReplyDelete